করোনাভাইরাস নিয়ে গুজবের এবং ষড়যন্ত্র তত্ত্বের অন্ত নাই। আপনি কি এরকম গুজব শুনেছেন? শুনে বিশ্বাস করে ৫ জন বা ৫০ জনকে ফরোয়ার্ড করে দিয়েছেন সেই গুজব? যদিও গুজবটা হাস্যকর রকমের মিথ্যা? এবং এখন হাতেনাতে লিংক সহকারে ধরা খেয়ে উল্টো রাগারাগি করছেন? এই পোস্টটা আপনার জন্য। যদি আপনি ঐ লেভেলের কান পাতলা হন।

রাগিব হাসান: গুজব ১ 

হার্ভার্ডের প্রফেসরকে এফবিআই গ্রেপ্তার করেছে, কারণ ইনি করোনাভাইরাস আবিষ্কার করে চীনের হাতে তুলে দিয়েছেন।

সত্যতা

১.১ হার্ভার্ডের কেমিস্ট্রি বিভাগের প্রফেসর চার্লস লিবার (Charles Lieber) ২৮ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তার সাথে করোনাভাইরাসের আদৌ সম্পর্ক নাই।

১.২ প্রফেসর লিবারকে চীনের সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাসে ৫০ হাজার ডলার বেতন পেলেও তা গোপন করে চেপে যাওয়ার অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়।

১.৩ প্রফেসর লিবার ন্যানোটেকনলজি নিয়ে কাজ করেন -- ভাইরাসের উপরে তিনি কাজ করেন না। চীনের বিশ্ববিদ্যালয়টি উহান ইউনিভার্সিটি অফ টেকনলজি একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে ভাইরাস নিয়ে কাজ করা হয় না।

১.৪ কেন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল? কারণ তিনি চীন থেকে আয় করা ও চীনের সাথে কাজ করা নিয়ে আমেরিকার ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্স এবং ন্যাশনাল ইন্সটিটিউটস অফ হেলথ এর কাছে মিথ্যা বলেছিলেন। বিদেশী রাষ্ট্র বিশেষ করে শত্রু রাষ্ট্রের কাছ থেকে টাকা পেলে তা প্রকাশ করা আইনত বাধ্যতামূলক

তথ্যসূত্র: ফ্যাক্টচেক

গুজব ২

করোনাভাইরাস ছড়ানোর সাথে 5g মোবাইল অ্যান্টেনার সম্পর্ক আছে। এই গুজবে শুনে অতিউৎসাহী লোকজন ইংল্যান্ড সহ নানা জায়গায় 5g অ্যান্টেনা টাওয়ারে আগুন দিয়েছে।

সত্যতা -

২.১ 5g এর সাথে করোনাভাইরাস ছড়ানোর কোন সম্পর্কই নাই। 5g নাই এমন প্রচুর দেশেই এটা ছড়িয়েছে।

২.২ তদুপরি 5g টাওয়ার দিয়ে কীভাবে একটা ভাইরাস ছড়াবে, সেই ব্যাপারে বিজ্ঞ ষড়যন্ত্রতাত্ত্বিকেরা নীরব। কারণ জবাব নাই।

২.৩ 5g এর কারণে ইমিউনিটি কমে, ক্যান্সার হয়, এর সবই ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকদের বানানো গুজব। কোন মেডিকাল ভিত্তি নাই।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

গুজব ৩

করোনাভাইরাস ল্যাবে বানানো হয়েছে। (আমেরিকাবিরোধী হলে বলুন আমেরিকার ল্যাবে, না হলে বলুন চীনের ল্যাবে)।

সত্যতা 

৩.১ নভেল করোনাভাইরাস যা কোভিড-১৯ এর জন্য দায়ী, তা কোনো ল্যাবে বানানো ভাইরাস নয়।

৩.২ বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে প্রমাণ করেছেন, এটি বন্য প্রাণীদেহ থেকে মানুষের দেহে সংক্রামিত হওয়া একটি ভাইরাস।

৩.৩ বিশ্ববিখ্যাত গবেষণা জার্নালে নেচার এ প্রকাশিত এই নিবন্ধে বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, এটি একটি প্রাকৃতিক ভাইরাস যা মানবদেহে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পরে নানা মিউটেশনের মাধ্যমে বর্তমান রূপ ধারণ করেছে।

তথ্যসূত্র: ন্যাচার

গুজব ৪

কাল থেকে Disasters Management Act চালু হচ্ছে। এর অমুক তমুক এবং সমুক ধারা বলে ফেইসবুকে কোন গুজব ছড়ানো মানা। কাজেই পোস্ট করতে গেলে সাবধান।

সত্যতা

(এটা আসলে ভাল গুজব -- এর ভয়েও যদি কান পাতলা লোকজন গুজব ছড়ানো বন্ধ করে!)

৪.১ এটা পুরোপুরি গুজব।

৪.২ কানপাতলা লোকজন (বাংলাদেশের) জন্য আরো হাস্যকর হল, এই আইনটা বাংলাদেশেরই না - এটা ভারতে ২০০৫ এ চালু হওয়া একটা আইন।

৪.৩ এবং এই গুজবটাও ভারতের। বেকুব কানপাতলা লোকজন বাংলাদেশের ভেবে ছড়ানো শুরু করেছে।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়াটুডে

লেখক- অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, ইউনিভার্সিটি অফ অ্যালাবামা, বার্মিংহাম


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা