কিছু ছোট ছোট ব্যাপারে খুব সহজেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন আপনিও। আসুন জেনে নিই কিভাবে দৈনিক জীবনজাপনে আরেকটু সতর্কতা অবলম্বন করা যায়।

যেখানে সেখানে থুতু/কফ ফেলবেন না। সেটা পায়ে পায়ে যে কারো বাড়িতেই পৌঁছে যেতে পারে। খুব সহজে ঘরে বসেই ভাইরাস পেয়ে যাবেন। বাড়ির অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে একই ঘরে থাকার সময় বা ১ মিটারের মধ্যে এলে ও জরুরি দরকারে বাড়ি থেকে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। মাস্কে সর্দি, থুতু, কাশি, বমি ইত্যাদি লাগলে সঙ্গে সঙ্গে সেটি পাল্টে নতুন মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। ব্যবহার করা মাস্ক ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিন বা ময়লা রাখার পাত্রে ফেলতে হবে। 

 

টাকা পয়সা সবচেয়ে বেশি জীবণু পরিবহন করে থাকে। অতএব, এক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করুন। প্রতিবার ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন। প্রয়োজনে স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। এবং শিশুদের হাতে খেলার ছলে টাকা ধরিয়ে দেবেন না। এতে স্বাস্থঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

 

হাঁচি, কাশি আসলে সেটা কমপক্ষে এক মিটার দূরত্বে দিন। বা কনুই দিয়ে মুখ ঢেকে নিন। নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিকে এলকোহল প্যাড দিয়ে পরিস্কার রাখুন। সম্ভব না হলে, সাবধানে মোবাইল ফোন ব্যবহার করুন। বারবার পরিস্কার করে নিন। কোয়ারেন্টিনে থাকার সময় সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে নিয়মিত। প্রয়োজনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। 

৪ 

যারা ধূমপায়ী আছেন, অনেকেই এক সিগারেট শেয়ার করে খেয়ে থাকেন। ধূমপান এমনিতেই স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। তার ওপরে এভাবে শুধু সিগারেটই না, ভাইরাসটাও শেয়ার করছেন একে অপরের সাথে। ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী অন্য কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা যাবে না। বাসনপত্র, থালা, গ্লাস, কাপ ইত্যাদি; তোয়ালে ও বিছানার চাদর অন্য কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা যাবে না। এসব জিনিস ব্যবহারের পর সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

৫ 

বাসায় দৈনিক পত্রিকা রেখে থাকেন অনেকে। এর মাধ্যমে খুব সহজেই অনেকটা টাকার মতো করে জীবাণু প্রবেশ করার সুযোগ থাকে আপনার বাসায়। কত হাত ঘুরে সে পত্রিকা আপনার বাসায় পৌঁছায় সেটা কেউ হলফ করে বলতেও পারবে না। অন্তত করোনার ক্রান্তিকাল সাবধানে পার করুন।  

দোকান থেকে কিছু কেনার পর, দোকানি ফু দিয়ে পলিথিন খুলে সদাই ভরতে নিষেধ করুন। এভাবে সরাসরি মুখ থেকে জীবাণু ছড়িয়ে যায়। যে কোনো দোকানে গেলে সেটা স্বাস্থকর কিনা সেটা দেখে নিন। এক্ষেত্রে খাবারের দোকানগুলো সবচেয়ে বেশি গুরত্বপূর্ণ।   

৭ 

চায়ের দোকানে যাতায়াত এর অভ্যাস বাদ দিন আপাতত। সেখানে নানান মানুষের সমাগম ঘটে। তাছাড়া একই চায়ের কাপে সবাই খাচ্ছে অস্বাস্থকরভাবে। কে কোন ভাইরাস সেখানে রেখে আসতেছে তা আমরা কেউই জানি না। এই কয়টা দিন চা না খেলে কিন্তু মরে যাবে না। এছাড়া পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করা পরিহার করুন আপাতত। পাবলিক ট্রান্সপোর্টেও সতর্ক থাকুন। করোনার নির্দেশনা মেনে চলুন।

৮ 

নিজের বাড়িতেও আইসোলেশনে থাকার চেষ্টা করুন। বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবেন না। মনে রাখবেন, এটা সাময়িক অবস্থা। এর জন্য স্থায়ী কোনো ক্ষতি করবেন না নিজের। ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী অন্য কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা যাবে না।

৯ 

যথাসম্ভব যে কারো সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। কথাটা হাস্যকর মনে হতে পারে। এই করোনার দিনগুলোতে আক্রান্ত সন্তানের স্পর্শে বাবা মায়ের প্রাণ হারানোর ঘটনাও ঘটছে। আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না কোনো প্রিয়জন হারিয়ে যাক আপনার জীবন থেকে। বিশেষ করে বিদেশ ফেরত যে কারো কাছ থেকে অন্তত ১৪ দিন দূরে ঠাকুন।

১০ 

ঘুমানোর জন্য আলাদা বিছানা ব্যবহার করতে হবে। যদি সম্ভব হয়, তাহলে আলাদা গোসলখানা ও টয়লেট ব্যবহার করতে হবে। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর আগে মাকে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে। কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে কোনো পোষা প্রাণী রাখা যাবে না। গুগল করে দেখুন, হংকং এ ইতিমধ্যেই দুইটা কুকুরের করোনা টেস্ট পজিটিভ এসেছে।

বিভিন্ন সংক্রামক রোগের কোয়ারেন্টিনের সময়সীমা ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। তবে এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ১৪ দিন। তাই অন্তত ১৪ দিনের জন্য হলেও এই সকল সাবধানতা অবলম্বন করুন। নিজে সতর্ক থাকুন। অপরকে সতর্ক করুন।


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা