একদিকে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক, অন্যদিকে গৃহবন্দী জীবন। এতে করে সবার মধেই কমবেশি মধ্যে নানাবিধ মানসিক পরিবর্তন আসছে। একঘেয়ে জীবন, সাধারণ জীবনযাপনে ব্যাঘাত, আর্থিক সমস্যাসহ নানাবিধ কারণে মানুষ খিটখিটে মেজাজের হয়ে যাচ্ছে...

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিটা গণমাধ্যম জুড়ে শুধুই করোনাভাইরাস। অবচেতন মনে যা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নানারকম তথ্য, উপাত্ত, পরামর্শ, গুজব ইত্যাদি ছড়িয়ে রয়েছে। আক্রান্ত ও মৃত ব্যক্তিদের সংখ্যা বৃদ্ধির নানা খবরে মানসিক উদ্বেগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে, স্বাভাবিকভাবেই যার প্রভাব পড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর।  

একদিকে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক, অন্যদিকে গৃহবন্দী জীবন। এতে করে মানুষের মধ্যে নানাবিধ মানসিক পরিবর্তন আসছে। একঘেয়ে জীবন, সাধারণ জীবনযাপনে ব্যাঘাত, রুটিন ব্রেক, আর্থিক সমস্যাসহ নানাবিধ কারণে মানুষ খিটখিটে মেজাজের হয়ে যায়। তারমধ্যে বিষণ্ণতা, পোস্ট ট্রোমাটিক স্টেস ডিসঅর্ডার, বার বার হাত ধোয়ার ফলে ওসিডি, ঘুমে সমস্যা, ক্ষুধামন্দা, বুকে ধড়ফড়ানি, অশান্তিসহ নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

সংক্রামক এই ভাইরাস নিয়ে অব্যাহত ভীতির কারণে মানুষের চিন্তা-ভাবনায় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে সামাজিক মেলামেশা, বিচার ক্ষমতা আরও বেশি রক্ষণশীল হয়ে উঠতে পারে। মানুষ যেহেতু সামাজিক জীব, অনেকের সঙ্গে একত্রে মিলেমিশে থাকতে অভ্যস্ত, তাই রোগের বিস্তার ঠেকাতে তখন মানুষের সাথে চলাফেরা, মেলামেশার ধরণের ওপরেও পরিবর্তন আসে। ফলে রোগের সংক্রমণ এড়াতে মানুষ সামাজিক দূরত্ব তৈরি করতে শুরু করে।

করোনাভাইসের দিনগুলোতে চীনের দৃশ্য 

বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যখন কোন রোগের হুমকি দেখা যায়, মানুষ সাধারণত প্রচলিত আইনকানুন বা নিয়ম মেনে চলে। এ ধরণের রোগের ক্ষেত্রে মানুষজন অপরিচিত বা নতুন ধরণের মানুষের সঙ্গে মেলামেশার পরিবর্তে, পরিচিত হওয়ার বদলে চেনাজানা মানুষের মধ্যেই থাকতে পছন্দ করে। ফলে দিনকে দিন মানুষ হয়ে ওঠে অতিমাত্রায় সংবেদনশীল। মহামারি নিয়ে তৈরি অনেক চলচ্চিত্রে দেখা যায়, এ রকম সংক্রমণের ক্ষেত্রে মানুষজন বিদ্রোহী হয়ে ওঠে, বেপরোয়া আচরণ করে।

দৈনন্দিন এ অবসাদ এড়াতে নিজেকে দিনভর সচল রাখুন। নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা দূর করতে গান শুনুন, বই পড়ুন, বা বিনোদনমূলক কিছু দেখার চেষ্টা করুন। ঘরে বসেই এমন কিছু করুন যাতে নিজের মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হবার সুযোগ যেন সৃষ্টি না হয়। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন। বয়স্ক মানুষেরা মৃত্যু ভয়ে ভুগতে পারেন, সেক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে সময় কাটান এবং তাদের কথা শুনুন। 

আপনি যদি একাকীত্বে ভোগেন তবে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান, পাশাপাশি বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ করুন। বাচ্চাদের এমনভাবে ব্যস্ত রাখুন যাতে তারা অল্প বয়সেই উদাস না হয়ে যায়। কারণ ছাড়া অযথা আতঙ্কিত হবেন না। ভুল তথ্য বহন করা চাঞ্চল্যকর সংবাদ বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলো থেকে দূরে থাকুন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি অনুশীলন করুন। একা না থেকে, পরিবারের সকলের সঙ্গে সময় কাটান। দিনগুলোকে বিষন্নতার চাদরে না ঢেকে, ভালোভাবে উপভোগ করার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, আগুনের এই দিনগুলো একদিন শেষ হবে। ততদিন পর্যন্ত নিজেকে সামলিয়ে রাখার দায়িত্ব তো নিজেরই।

আরও পড়ুন- 


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা