আগে দেশের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করুন। করোনার ক্রান্তিলগ্ন পার হলে না হয় আবারো বিদ্রোহী হয়ে ওঠা যাবে। আপাতত সুবোধ নাগরিকের মতো কী কী করণীয় সেটা জেনে নিন।

আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল (২০২০); সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। খোলা থাকবে- হাসপাতাল, পুলিশ স্টেশন, কাঁচাবাজার, নিত্যপণ্যের দোকান, সীমিত আকারে ব্যাংকিং সেবা। সেনাবাহিনী মোতায়ন করা হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য। সকলকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে।

এ বন্ধের সময়টাতে সারা দেশে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। তবে জরুরী পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ওষুধ, জরুরি সেবা, জ্বালানি, পচনশীল পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। পণ্যবাহী যানবাহনে কোনও যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।

কাঁচাবাজার, খাবার এবং ঔষধের দোকান, হাসপাতাল এবং জরুরি সেবার জন্য এই ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে না। করোনাভাইরাসের বিস্তৃতি রোধকল্পে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সঙ্গে জনসাধারণকে এই মর্মে অনুরোধ করা যাচ্ছে, তারা যেন এ সময় জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত (খাদ্যদ্রব্য ক্রয়, ঔষধ ক্রয়, চিকিৎসা, মৃতদেহের সৎকার ইত্যাদি ) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে না আসেন।

সবরকম সামাজিক রাজনৈতিক/ধর্মীয় জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অসুস্থ, জর, সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মসজিদে না যেতে বারংবার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। তা ভঙ্গ করে একজন মিরপুরে মসজিদে যাওয়ায় অন্য ব্যক্তিও আক্রান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের ইসলামী ফাউন্ডেশন এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের অনুশাসন কঠোরভাবে মেনে চলতে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আতংক নয়। দরকার সচেতনতা ও সতর্কতা। 

২৪ মার্চ অর্থাৎ আজকে থেকে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সামাজিক দুরত্ব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে সেনাবাহিনী প্রশাসনকে সহায়তায় নিয়োজিত হবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে তারা জেলা ও বিভাগীয় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে। সেনাবাহিনী বিশেষ করে বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের কেউ নির্ধারিত কোয়ারেন্টিনের বাধ্যতামূলক সময়পালনে ত্রুটি বা অবহেলার করছে কিনা তা পর্যালোচনা করবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা এজন্য স্থানীয় আর্মি কমান্ডারের কাছে সেনাবাহিনী কর্তৃক অবস্থা পর্যালোচনার জন্য আইনানুসারে অনুরোধ জানাবেন। রাস্তায় আর্মি দেখার জন্য আবার ভিড় জমাবেন না যেন! মনে রাখবেন সেনাবাহিনী জেগে থাকে বলে, আমরা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারি। ঘরে বসে থেকেই তাদের কাজে সাহায্য করুন।

স্পষ্ট বোঝা গেছে তো ব্যাপারটা? এই নির্দেশনা শুধু দেশের জন্য না, নিজের এবং পরিবারের বেঁচে থাকার জনেই পালন করতে হবে। ‘মেলাদিন ছুটি পাইছি, বউ বাচ্চাসহ বস্তা-গাট্টি বোগলদাবা কইরা নিয়া চল গ্রামের বাড়ি...’ দোহাই লাগে এমন করবেন না কেউ! এতে হিতে বিপরীত হবে! অলরেডি যা ছড়ানোর ছড়িয়েছে, আর ছড়াবেন না প্লিজ! এটা কিন্তু ঈদের ছুটি না। করোনাভাইরাসের আক্রমনে দেশ এখন ক্রান্তিকাল পার করছে। এ সময়ে বিশেষ সতর্কতার অংশ হিসেবে এই ছুটি দেয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও যে পেশার মানুষগুলো হোম অফিস করতে পারছেন না। ডাক্তার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ব্যাংকার, দোকানদার, ড্রাইভার, ক্লিনার কিংবা স্বেচ্ছাসেবক। এই ধরণের জনসেবামূলক পেশার মানুষদের কথা মনে রাখুন। এরাই মূলত ক্রাইসিস মোমেন্টে ফ্রন্টলাইনে থাকে। তাদের নিয়ে উপহাস না করে যথাসম্ভব শ্রদ্ধাশীল থাকুন।

কিছু না করেই সাবধান থাকবার দারুণ সুযোগ এখন আপনার কাছে। আর কখনও হয়তো এমন বেকার অফার পাবেন না। ইতালি, আমেরিকার মতো দেশ যেখানে লাশের মিছিল থামাতে পারছে না। কি মনে হয়- আপনার কিছুই হবে না? সচেতনতা ছাড়া করোনাযুদ্ধে কোনভাবেই জয়লাভ করা সম্ভব নয়। তাই নিজের গোয়ার্তুমির জন্য পুরো দেশ বরবাদে অংশ নেবেন না প্লিজ। এখনও সময় আছে যদি চাই তবে অনেক জীবন রক্ষা করতে পারি। শুধু দরকার একটু সচেতনতা এবং নির্দেশনা মেনে চলা।    


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা