আতঙ্ক ছড়ানোয় ওস্তাদ বীর বাঙালি। এই করোনাভাইরাসের ভ্যাক্সিনও একদিন পাওয়া যাবে। কিন্তু বাঙালির কমনসেন্সের ভ্যাক্সিন কখনই পাওয়া যাবে না।

গত কিছুদিন ধরে ভাইরাল উত্তরা রেলস্টেশনের ভিডিও কিংবা ছবি দেখেছেন নিশ্চয়ই? অথবা কমলাপুর রেলস্টেশনে টিকেটের লম্বা লাইন? বা মাওয়া ফেরী ঘাটের ছবি? কি মনে হচ্ছে? এরা খুব স্বাভাবিক আচরণ করছে?

আতঙ্ক ছড়ানোয় ওস্তাদ এই বঙ্গদেশের জনতা। এই অমূলক আচরণ ডিফেন্ড করার মতো নেটিজেনদের সংখ্যাটাও কিন্তু কম না। তাদের কিছু টেমপ্লেট মুখস্থই থাকে, সেটাই বারবার আওরাতে থাকেন উদ্ভ্রান্তের মতোন। মোদ্দাকথা, এই নিরীহ মানুষগুলো কই যাবে তাইতো? আগে বলুন, এই নিরীহ মানুষগুলোই যে আচরণ শুরু করেছে তাতে যদি দেশে করোনা মহামারি শুরু হয় তবে তার দায় কে নেবে?  

এই হুড়মুড় করে বাড়ি যাওয়া মানুষগুলো যদি সারা বাংলাদেশে ভাইরাসটা ছড়িয়ে দেয়, তখন আক্রান্ত হবার পর তাদের কী হবে? আপনার ফেসবুক সহমর্মিতায় তারা সুস্থ হয়ে উঠবে? চিকিৎসার জন্য যখন আবারো হুড়মুড় করা শুরু করবে, তখনও কি এই উদারতা দেখাতে পারবেন? নাকি চাচা আপন প্রাণ বাঁচা বলে নিজেকে উদ্ধার করবেন?  

লাখ লাখ মানুষ বছরের পর বছর বেকার থাকে। কোনো একটা জোগাড় করে নেয় নিজের জন্য। কষ্ট হলেও বেঁচে থাকার চেষ্টা করে। আর একটা মাস আপনারা যে যার অবস্থানে স্থির থাকতে পারলেন না? আপনাদের মনে হলো এই দশদিনের ছুটিটা কাজে লাগানো দরকার? সব ছেড়েছুড়ে বাড়িতে চল, নামাও ঢল। এটা যে মৃত্যুর ঢল না সেটা খুব নিশ্চিত করে বলা যায়? আজ এই ঢল থামাতে চাইছেন না, কাল কিন্তু লাশের মিছিল থামানোর উপায় খুঁজতে হবে। তখন কি করবেন?

অনেকেই বলছেন, পুরো দেশ লকডাউন না করে দিয়ে ছুটি ঘোষণা করলো কেন তাহলে? ভাইরে ভাই, কারা আপনারা? মাস্টারমাইন্ড পলিসি মেকার একেকজন। আপনার কি মনে হয় লকডাউন করে বাঙালিকে আটকানো সম্ভব? ধরে নিলাম সম্ভব। বাকী দেশগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখুন, ততক্ষণ পর্যন্ত তারাও লকডাউন করে সুবিধা করতে পারেনি যতক্ষণ পর্যন্ত না তাদের জনগন সহযোগিতা করা শুরু করেছে। দেশে তো জেলখানা, পাগলাগারদও খোলা আছে। কই সেখানে তো কেউ হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ছে না। কেন? কারণ নিজের ভালো নাকি পাগলেও বোঝে। তাহলে এই জম্বির মতো আচরণ কেন?

আরেক দল আছে, কিছু হলেই মারফতি স্টাইলে ‘মরণ থাকলে তো মরবোই’ বলে  নিয়তির ওপর দোষ চাপিয়ে দেন। কেন রে ভাই? যখন রাস্তা পার হন- তখনও কি নিয়তির ওপর ছেড়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করেই পার হন? নাকি চোখ, কান খোলা রেখে বুদ্ধি খাটিয়ে রাস্তা পার হন? আপনাকে বুদ্ধি দেয়া হয়েছে সেটা ব্যবহার করে চলাফেরা করার জন্য, শোকেসের সবচেয়ে ওপরের থাকে তুলে রাখবার জন্য না।


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা