এই সংকটের সময়ে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন এবং সংগঠনটির ভলান্টিয়াররা যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে, জীবন বাজী রেখে কাজ করছে, সেটাকে অবিশ্বাস্য বললেও কম বলা হবে!

COVID-19 উপসর্গের রুগী এসেছিলো এক এ্যাম্বুলেন্সে, তাই ভয়ে কেউ কাছে ঘেঁষে না। শেষে ভীর ঠেলে অচেনা দুই তরুণ দীপ্ত পায়ে হেঁটে যায়, স্প্রে করতে থাকে এ্যাম্বুলেন্সের ভিতরটাতে। 

এই হাসপাতালটিতে ভর্তি আছে করোনা উপসর্গের রুগী। তাঁদের জীবাণুতে যেন অন্যরা আক্রান্ত না হয় সেজন্য নিয়মিত ঔষধ ছিটানোর প্রয়োজন। কিন্তু ভীতিকর এক কাজটি কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করবে না, তাই দায়িত্বটি কাঁধে তুলে নেয় বিদ্যানন্দের স্বেচ্ছাসেবকরা।

এভাবে তাঁরা হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরে চলে গভীর রাত পর্যন্ত, ঢাকা মেডিক্যাল থেকে মিডফোর্ড কিংবা ভিন্ন কোন হাসপাতালে। রাত গভীর হয়, কাজ শেষে নিজেদের শরীরে স্প্রে করে চেপে বসে এ্যাম্বুলেন্সে। তাঁদের চেহারা কেউ দেখে না, তাঁদের কণ্ঠও কেউ শুনে না। 

স্প্রে করা হচ্ছে হাসপাতালে

এই স্বেচ্ছাসেবীরা বাসায় ফিরতে পারছে না সপ্তাহের পর সপ্তাহ, তাই বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয় না, বোনের সাথে ঝগড়া করা হয় না। তাঁরা যেন এই জগতের অস্পৃশ্য জীব, পৃথিবীকে শুভ্র রাখতে গিয়ে দূরে যেতে হয়েছে সবার থেকে।  

কোন একদিন তাঁদেরও হয়তো টেস্ট হবে, কেউ হয়তো ধরাশায়ী হবে এই রোগে। যে বিছানাগুলো তাঁরা স্প্রে করে যেতো প্রতিদিন, সেখানেই তাঁরা পড়ে থাকবে সবার চক্ষুর আড়ালে। কেউ জানবে না, বাকিদের সুস্থ্য রাখতেই তাঁরা আলিঙ্গন করেছে এই পরিনতি।  

এসব ভাবতে ভাবতে গলা জড়িয়ে আসে, অজানা অভিমান মনে চাপে, কাল্পনিক ঝগড়া চলে প্রিয় মানুষের সাথে।

আবারও দিন শেষে রাত হয়, ধীরে ধীরে ঔষধের মেশিনটা কাঁধে চেপে নেয়, বর্মটা বুকে চাপিয়ে এগিয়ে চলে অদৃশ্য শত্রুর সাথে লড়তে।

লেখাটি বিদ্যানন্দের ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া।


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা