ছবির মহিলাটির নাম Vangelia Gushterova। গোটা বিশ্বে উনি আলোচিত ছিলেন 'বাবা ভানগা' নামে। ১৯৯৬ সালে তিনি মারা যান। বুলগেরিয়ান এই মহিলার প্যারানরমাল এবিলিটিজ ছিল বলে আজও অনেকে বিশ্বাস করেন।

ফয়সাল শোভন: ১৯১১ সালে মহিলার জন্ম। ছোটবেলায় মাকে হারালেন। দুঃখ-কষ্টে কেটেছিল শৈশব। বয়স যখন ১২ বছর, তখন এক টর্নেডোর কবলে পড়েন তিনি। এরপর দুচোখের দৃষ্টি হারান। প্রাতিষ্ঠানিক তেমন কোনো লেখাপড়া প্রায় নেই। টিভি রেডিও নিউজপেপার এসবের কিছুই পড়েননি তিনি। কিন্তু এক গায়েবি কায়দায় তার জ্ঞানবুদ্ধি হয়েছে। তিনি ভবিষ্যৎ বলতে পারেন এবং অন্ধ হবার পর আচমকা উনার এই ক্ষমতা দেখা দেয়!

প্রথমে গ্রামের মানুষের ভবিষ্যৎ বলা শুরু করলেন। প্রথমে কেউ গুরুত্ব দিলো না। কিন্তু একসময় যখন সবকিছু ফলতে শুরু করলো, তখন সবাই পাত্তা দিলো। এরপর গ্রাম থেকে শহর। শহর থেকে দেশ। দেশ থেকে মহাদেশ। মহাদেশ থেকে গোটা বিশ্বের বিভিন্ন আলোচিত ঘটনার ভবিষ্যদ্বাণী দিয়েছিলেন বাবা ভানগা। এক পর্যায়ে গোটা বুলগেরিয়া, এবং এরপর গোটা সোভিয়েত ইউনিয়নে বাবা ভানগার নাম ছড়িয়ে পড়লো। তাকে নিয়ে গবেষণা শুরু হয়ে গেল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু। কে হারবে-কে জিতবে, স্তালিনের কত সালে মারা যাবেন, বুলগেরিয়ার সার বরিসের মরণের সঠিক দিন তারিখ, চেকোস্লোভাকিয়ার ভাঙ্গন, সোভিয়েত ইউনিয়নের ব্রেকডাউন- এরকম বহু ঘটনার প্রেডিকশন তিনি দিয়েছিলেন সঠিকভাবেই। যেমন- ১৯৮৯ সালে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, "Horror, horror! The American brothers will fall after being attacked by the steel birds. The wolves will be howling in a bush, and innocent blood will be gushing."

২০০১ সালের টুইন টাওয়ার (American Brothers) হামলা। Steel Birds মানে প্লেন। Wolves (যুদ্ধবাজেরা) howling in a bush (এখানে জঙ্গল বোঝাচ্ছে। কিন্তু সত্যি সত্যিই তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্টের নাম ছিল বুশ। এবং তাকে যুদ্ধবাজেরা ব্যবহার করেছিল টুইন টাওয়ার হামলাকে পুজি করে ইরাক যুদ্ধে)। innocent Blood will be gushing (সত্যি সত্যিই টুইন টাওয়ার হামলার পর অজস্র নিরীহ মানুষ মরেছে তথাকথিত টেরোরিজম বিরোধী যুদ্ধে)।

বাবা ভানগা

বাবা ভানগা ১৯৯১ সালে দাবি করেছিলেন, আমেরিকার ৪৪ তম প্রেসিডেন্ট হবে একজন আফ্রিকান আমেরিকান। এবং তিনিই হবেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেষ কমান্ডার ইন চিফ। তার উপর দুনিয়ার সব মানুষ আস্থা রাখবে। ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো- সত্যি সত্যিই ২০০৯ সালে আমেরিকার ৪৪ তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন বারাক ওবামা। একজন আফ্রিকান আমেরিকান। এবং সত্যি সত্যিই তার উপর দুনিয়ার অজস্র মানুষ অনেক আশা রেখেছিল। বাবা ভানগার মৃত্যুর ১৩ বছর পর! আর "The Last commander in chief" কথাটা যদি মেটাফোরিকভাবে ধরেন, তাহলে হয়তো সেটা গ্লোবাল ডমিনেন্সের পতন অর্থে বোঝানো। যেমন- এখন ট্রাম্পকে নিয়ে অনেকে উপহাস করেই বলে, একে কেউ সম্মান করে না। ইউরোপিয়ান alias যারা আছে, তারাও ট্রাম্পকে এখন আর ভরসা করে না। 

1989 সালে বাবা ভানগা বলেছিলেন, "A big wave will cover a big coast covered with people and towns, and everything will disappear beneath the water" এটা ছিল ইন্দোনেশিয়ার সুনামির ব্যাপারে প্রেডিকশন।

১৯৭৯ সালে বাবা ভানগা বলেছিলেন, এই শতাব্দীতেই সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবে। রাশিয়া দুর্বল হবে। এবং সেখান থেকে একজন ব্যক্তি রাশিয়াকে টেনে তুলবে। ভানগা বলেছিলেন, “All will thaw, as if ice, only one remain untouched- Vladimir’s glory, glory of Russia. Too much it is brought in a victim. Nobody can stop Russia. All will be removed by her from the way and not only will be kept, but also becomes the lord of the world.” এবং অবাক করা ব্যাপার কী জানেন? আক্ষরিক অর্থেই গত এক যুগ ধরেই ফোর্বসের তালিকায় দুনিয়ার সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিটির নাম ঘুরেফিরে Vladimir দিয়েই শুরু।

ভ্লাদিমির পুতিন

২০০৮-০৯ এর দিকেও যখন কেউ গ্লোবাল পলিটিক্সে রাশিয়ার ভুমিকা নিয়ে কথা বলতো, তখন অনেকেই রাশিয়াকে গোনায় ধরতো না। আর এখন দেখেন! সব জায়গায় রাশিয়ান ইনফ্লুয়েন্স আছে। এবং তিনি আরো বলেছিলেন- ভ্লাদিমিরকে বারবার খুন করার চেষ্টা করা হবে। এখন পর্যন্ত ভ্লাদিমির পুতিনকে হত্যা করার জন্য দুইবার চেষ্টা করা হয়েছে।

বাবা ভানগা আরো প্রেডিকশন দিয়েছিলেন আরব বসন্তের। এবং ইউরোপে ব্যাপক পরিবর্তনের। একবিংশ শতাব্দীর শেষে আবার নতুন করে কম্যিউনিজম ফিরে আসবে- এমন একটা প্রেডিকশনও তার ছিল।

বাবা ভানগা বেঁচে থাকতে গোটা দুনিয়া থেকে অগনিত মানুষ তার কাছে যেত নিজেদের ভবিষ্যৎ শুনতে। খুব একটা কথা বলতেন না তিনি। অল্প দুই-একটা কথা বলতেন, সেগুলোই ফলে যেত। যেমন- ১৯৭৬ সালে যুগস্লাভিয়ার অভিনেত্রী Silvana Armenulić বুলগেরিয়া ভ্রমনে গেলেন বাবা ভানগার সাথে দেখা করতে। কিন্তু বাবা ভানগা দেখা করতে রাজি হলেন না। পরে অনেক আবদার করার পর রাজি হলেন। অভিনেত্রী বেশ কিছুক্ষণ বাবা ভাগনার সামনে বসে থাকলেন। বাবা ভানগা চুপ করে থাকলেন কিছুক্ষণ। এরপর বললেন, "You do not have to pay. I do not want to speak with you. Not now. Go and come back in three months." একথা শুনে হতাশ হয়ে অভিনেত্রী বাবা ভানগার ঘর থেকে বের হয়ে যেতে লাগলেন, হঠাৎ বাবা ভানগা তাকে থামতে বললেন। এরপর বললেন, "Wait. In fact, you will not be able to come. Go, go. If you can come back in three months, do so."

একথা শুনে অভিনেত্রী কাঁদতে শুরু করলেন। ভাবলেন, এটা সম্ভবত তার মরণের প্রেডিকশন। এবং সত্যি সত্যিই দুই মাসের মাথায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় সে অভিনেত্রীর। বড় বড় ব্যবসায়ী এবং নেতা, যেমন- রাশিয়ার বোরিস ইয়েলিৎসিনের মতো লোকেরাও বাবা ভানগার প্রেডিকশন শুনেছিলেন তাদের নিজেদের ব্যাপারে। বাবা ভানগার আরো অনেক ভবিষ্যৎ প্রেডিকশন এখানে পড়ুন। 

যাই হোক, এবার রিয়েলিটিতে আসি। গবেষণা করে দেখা গেছে, তাঁর ভবিষ্যত বানীর ৮০% সফল, ২০% ব্যর্থ। বাস্তবে ব্যাপারটা নস্ট্রোডামাসের মতো- ঝড়ে বক মরে, ফকিরের কেরামতি বাড়ে টাইপের। ইনার বেলায় বক একটু বেশিই মরে। ইনট্রুশন পাওয়ার ভালো মহিলার।


ট্যাগঃ

শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা