বাংলাদেশে সুশাসন এই মুহূর্তে একটা কৌতুকের নাম!

বিদেশে থাকলেও ফেসবুক আর অনলাইনের কারণে সব খবরই দেখি। বাংলাদেশের আইনের শাসনের কী অবস্থা সেটা আরেকবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো পিরোজপুর।

পিরোজপুরের সাংসদ আউয়াল সাহেবের কীর্তি কার এলাকায় অজানা নয়। সাংবাদিক হিসেবে আমি নিজে সেসব ঘটনার অনুসন্ধান করতে গিয়েছিলাম। তার বিরুদ্ধে দুদক একাধিক মামলাও করেছে। সেই মামলায় বিচারক গতকাল তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আফসোস কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সেই বিচারক পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল মান্নানকে বদলি হয়ে যেতে হয়।

ওদিকে ঘটনার পর এ কে এম এ আউয়াল নানা অভিযোগ এনেছেন মৎস্য ও পশুসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে। তিনি অভিযোগ করেছেন, দুদকের মামলায় জামিন নামঞ্জুর করতে বিচারককে প্রভাবিত করেছেন মৎস্য ও পশুসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

আরেকটা খবর বলি, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেছেন মতিয়ার রহমান। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো তার যোগদানের বিজ্ঞাপন বড় সবকটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এই পদটি কী সচিব মন্ত্রীদের চেয়েও বড়? নয়তো কেন এতো বিজ্ঞাপন? কারা লাখ লাখ টাকা খরচ করলো। এর নামই বুঝি সুশাসন?

ও হ্যা, আরেকটি খবর। বাংলাদেশ থেকে বছরে পাচার ৬৪ হাজার কোটি টাকা। সিপিডি বলছে,রাজনীতিবিদ, আমলা, ব্যবসায়ী—প্রায় সবার ছেলেমেয়ে বিদেশে থাকে। সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাঁরা টাকা সরানোর চেষ্টা করেন। তাঁদের মধ্যে এ দেশে বিনিয়োগ বা টাকা রাখায় কোনো আস্থা নেই।

আফসোস দেশপ্রেম আর উন্নয়নের সব বুলি আবার তাদের মুখে। এই হলো বাংলাদেশ। আমি জানিনা, আর কবে সুশাসন আসবে এই বাংলাদেশে। আর কবে?


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা