অস্ট্রেলিয়ায় দাবানলের ভয়াবহতার মাত্রা এতটাই চরম আকার ধারণ করেছিলো যে নিউজিল্যান্ডের আকাশ পর্যন্ত কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে গিয়েছিলো। কমপক্ষে ১০০ কোটি প্রাণ নিঃশেষ হয়ে গেছে! ভাবা যায়? 

টানা ২৪০ দিন দাবানলের পর আগুন নিভেছে অস্ট্রেলিয়ায়। আগুনটা অস্ট্রেলিয়ায় লাগলেও, পুরো বিশ্ব প্রার্থনা করেছে তাদের জন্য। তাই স্বস্তির খবরটাও সবার জানার রয়েছে অধিকার। গতবছর জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই দাবানলে পুড়েছে কোটি কোটি একর বনজঙ্গল, জমি, গাছপালা। জীবন হারিয়েছে এক বিলিয়ন প্রাণ। বিলিয়নের হিসেবে হয়তো অনেকের গায়ে লাগবে না সংখ্যাটা। কমপক্ষে ১০০ কোটি প্রান নিঃশেষ হয়ে গেছে! ভাবা যায়? 

গত কয়েকমাস যাবত স্বেচ্ছাসেবী দমকল বাহিনীর কাজ করা ‘দ্য এনএসডাব্লিউ’ জানিয়েছে, ২৪০ দিনেরও বেশিদিন স্থায়ী ছিলো এ দাবানল। অবশেষে থেমেছে। আপাতত আগুনের কোনো প্রতাপ নেই সেখানে। গত ২ মার্চের পর থেকে সেখানে আর দাবাবনলের আগুন জ্বলতে দেখা যায়নি। নিজেদের টুইটার একাউন্টে টুইট করে এই স্বস্তির খবর নিশ্চিত করে তারা। ব্যাপারটি অনেকটা মিরাকেল এর মতনই।

অস্ট্রেলিয়ায় দাবানলের ভয়াবহতার মাত্রা এতটাই চরম আকার ধারণ করেছিলো যে নিউজিল্যান্ডের আকাশ পর্যন্ত কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছিলো। দাবানল থেকে রক্ষা পেতে আশ্রয়ের খোঁজে হাজার হাজার মানুষ সেখানকার সমুদ্র উপকূলের দিকে পালিয়েছে। প্রাথমিকভাবেই, প্রায় ৫০ কোটি প্রাণী মারা গিয়েছিলো। এর মধ্যে ছিলো স্তন্যপায়ী, পাখি ও সরীসৃপসহ  বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী।   

অস্ট্রেলিয়ায় দাবানলে পুড়ে যাওয়ার পর নতুন প্রাণ সঞ্চার হচ্ছে 

অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণত গ্রীষ্মকালে তাপদাহের কারণে জঙ্গলে দাবানল হয়। স্থানীয়রা একে বলে থাকে বুশফায়ার। এই দাবানল কতোটা ভয়ংকর হতে পারে, ধারণকৃত স্থিরচিত্র ও ভিডিওতে উঠে এসেছে তার করুণ চিত্র। আগুনের এ তীব্রে রোষের মুখে অসহায় হয়ে পড়ে হাজার হাজার মানুষ। কখনও সংলগ্ন এলাকা থেকে মানুষজনকে উদ্ধার করা অথবা দাবানলের পথে গাছ কেটে আগুন থামানোর চেষ্টাতেই অবলম্বন খোঁজেন স্থানীয়রা। সরকারিভাবে বিমান থেকে বিশেষ তরল মিশ্রণ ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও কাজ হয় না।  

বুশফায়ার বা দাবানলপ্রবণ এলাকায় জনবসতি তুলনামূলক কম থাকে। ফলে লোকজনের প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কিছুটা কম হয়। তবে এ দাবানলে প্রচুর গাছ ও জীবজন্তুর প্রাণহানি ঘটে। দাবানলের কারণে স্থানীয় প্রাণীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে কোয়ালা, কারণ এই প্রাণীগুলো ধীরে ধীরে চলাচল করে এবং ইউক্লিপটাস গাছের পাতা খেয়ে বেঁচে থাকে। আর এই গাছ অতিমাত্রায় দাহ্য। ফলে খুব দ্রুত গাছগুলো পুড়ে যায়।  কোয়ালার পাশাপাশি ক্যাঙ্গারুসহ স্তন্যপায়ী, পাখি ও সরীসৃপ জাতীয় বিভিন্ন ধরণের প্রাণী মারা যায় দাবানলের ভয়াবহতায়।        

এইতো বেশ কিছু দিন আগেও আমাজনে দাবানলের ভয়াবহতা আমরা দেখেছি। এখন দেখছি করোনাভাইরাসের প্রতাপ। পৃথিবীর ওপর চাপিয়ে দেয়া এ ভয়াবহতার দায়ভার আমরা কোনোভাবেই এড়াতে পারি না। পরিবেশকে দিনের পর দিন ভারসাম্যহীনতার দিকে আমরাই ঠেলে দিয়েছি। এভাবে চলতে থাকলে সেদিন খুব বেশি দূরে নয়, যেদিন এ ধরণী কোনোভাবেই আর কোনো প্রাণীর বসবাসের যোগ্য থাকবে না।

আরও পড়ুন- ভয়ংকর দাবানল ও সুশীতল মানবতার গল্প


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা