এএফআই এর শতবর্ষী জরিপে, সেরা নায়ক এবং খলনায়ক দুটো তালিকাতেই স্থান রয়েছে তার; অর্থাৎ পজেটিভ নেগেটিভে মিশে একাকার। এমনই একজন আর্টিস্ট তিনি।

তাকে বলা হয় সর্বকালের সেরাদের একজন। অষ্টম নমিনেশনের সর্বশেষ বারে জিতেছেন অস্কার। সেটা গ্রহণ করতে যখন স্টেইজে উঠলেন ততক্ষনে মিলনায়াতনের সবাই উঠে দাঁড়ালেন তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য। এ যেন এক বিরল মুহূর্ত। তৎকালীন প্রেক্ষাপটে খুব কম সংখ্যকবারই ঘটেছে এমন ঘটনা।

সেবার নমিনেশনের তালিকাও ছিলো লিজেন্ডে ভরপুর। আনফরগিভেনের জন্য ক্লিন্ট ইস্টউড, ম্যালকম এক্সের জন্য ডেনজেল ওয়াশিংটন বা হালের ক্রেজ রবার্ট ডাউনি জুনিয়রও নমিনেশন পেয়েছিলেন চ্যাপলিনের জন্য। সেদিন তিনি নয়, বরং অস্কারেরই সৌভাগ্য হয়েছিলো তার হাতে শোভা পাওয়ার। সেসময়ে যদি ইন্টারনেটের প্রচলন এখনকার মতই প্রকট হতো তবে অবশ্যই সেদিন ইন্টারনেট এক্সপ্লোড করতো। ঠিক যেমনটা করেছে ডি'ক্যাপ্রিওর অস্কার জেতার দিন।

আল পাচিনোর যে বৈশিষ্টটি সবচেয়ে ভালো লাগে সেটি হচ্ছে তার ব্যক্তিত্ব। কথা বলার ধরণ, কন্ঠস্বর, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ/এক্সপ্রেশন কিংবা পারফেক্টলি টাইমড ডায়লগ ডেলিভারি। তিনি সিনেমাতে যেভাবে কথা বলেন বাস্তবেও ঠিক তেমনটাই। অর্থাৎ, এতটাই ক্যারিজম্যাটিক যে উনাকে খুউব একটা অভিনয় করতে হয় না।

এ কারণেই রেকর্ডসংখ্যক ৩ বার অস্কারজয়ী মেথড অ্যাক্টিং গুরু ডেনিয়াল ডে লুইস বলেছিলেন, আমাকে বাধ্য হয়ে মেথড অ্যাক্টিং করতে হয় কারণ আমি পাচিনোর মত ক্যারিজম্যাটিক না।

সেল্যুলয়েডের অন্যতম গডফাদার বা গ্যাংস্টার হিসেবে সুপরিচিত পাচিনো মনে করেন, তার সেরা পারফরম্যান্স ছিলো ১৯৮৩ সালের স্কারফেস মুভিটিতে। অলিভার স্টোনের রচনা এবং ব্রায়ান ডি পালমার পরিচালনায় এ মুভিটিকে বর্তমানে মর্যাদা দেয়া হয় কাল্ট ক্ল্যাসিক হিসেবে। অথচ এ স্কারফেসের জন্য জেতা তো দূর একাডেমির নমিনেশনই পাননি তিনি।

ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, অর্ধশতাধিকের বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করা আল পাচিনোর সেরা অভিনয়টা ছিলো 'সেন্ট অফ এ উম্যেন' মুভিটিতে। শুধুমাত্র চোখ নাড়িয়েই যে দুর্দান্ত অভিনয় করা যায় সেটা তিনি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। কেউ যদি অভিনয় শিখতে চায় তবে বলবো 'সেন্ট অফ এ উম্যেন' মুভিটিতে আল পাচিনোর 'আচরণ' দেখুন। এটাই অভিনয়। অন্ধ চরিত্রে এতটা জীবন্ত অভিনয় আর কখনো দেখিনি। পাচিনোকে চেনেন না এমন কাউকে যদি মুভিটা দেখানো হয় তবে হয়তো তিনি ভেবেই বসতে পারেন যে লোকটা আসলেই অন্ধ। এমনই একজন আর্টিস্ট তিনি।

অস্কার হাতে আল পাচিনো

৭৯ বছর বয়সী এ গ্রেট অভিনেতা অভিনয় করেছেন ৬১ টি টাইটেলে, প্রযোজনা করেছেন ৪টি টাইটেলে, লিখেছেন ২টি টাইটেলে, পরিচালনা করেছেন ৪টি টাইটেলে। একাডেমিতে নমিনেশন পেয়েছেন ৯ বার, জিতেছেন ১ বার। বাফটায় নমিনেশন পেয়েছেন ৫ বার, জিতেছেন ১ বার। গোল্ডেন গ্লোবে নমিনেশন পেয়েছেন ১৮ বার, জিতেছেন ৪ বার। ক্যারিয়ারে সর্বমোট ১১২ নমিনেশনে জিতেছেন ৫০ বার।

এএফআই এর শতবর্ষী জরিপে, সেরা নায়ক এবং খলনায়ক দুটো তালিকাতেই স্থান রয়েছে তার; অর্থাৎ পজেটিভ নেগেটিভে মিশে একাকার। নায়কের তালিকায় ফ্র্যাংক সেরপিকো এবং খলনায়কের তালিকায় ডন মাইকেল কর্লিয়নি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি এ স্থান লাভ করেন।

মুভি সিলেকশনে আরেকটু যত্নবান হলে আমরা হয়তো আরও কিছু অমায়িক চরিত্র পেতাম তার কাছ থেক― শুধু এই একটাই অভিযোগ আমার তার প্রতি! তার সত্তর এবং নব্বই দশকের মুভিগুলো আমার সবচেয়ে প্রিয়। সম্প্রতি, স্করসেসি এবং ডি নিরোর কলাবরেশনে কাজ করেছেন দ্যা আইরিশম্যান চলচ্চিত্রে। এ বয়সেও পেয়েছেন অস্কার নমিনেশন। অনন্তকাল চলুক এই লিজেন্ডের লেগাসি, নিঃস্বার্থ ভালোবাসাও রইবে তার প্রতি। 


ট্যাগঃ

শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা