আমার মতে, প্রতিটি পূর্ণবয়স্ক মানুষের এই পাঁচটি কাজ করা অবশ্যই উচিৎ।

১) জীবনে অন্তত একটা প্রেম করা।

২) নিজের দেশ সহ অন্তত আরও দুটো দেশ ভ্রমণ করা।

৩) জীবনের একটা সময়ে সম্পূর্ণ একা থাকা।

৪) নিয়মিত বই পড়া।

৫) সপ্তাহে অন্তত দুটো সিনেমা দেখা। এবং সময়, অসময়ে গান শোনা।

প্রশ্ন হলো, এগুলো কেন করা অবশ্যক?

জীবনে অন্তত একটা প্রেম করা, কারণ প্রেম এমন একটা অনুভূতি, সেখানে সম্পূর্ণ অপরিচিত একটা মানুষের ত্রুটিগুলোকে ভালবেসে ফেলা যায়, কারও অপূর্ণতায় মুগ্ধ হওয়া যায়। যুক্তি-তর্কের ত্রিসীমানায় না ঘেঁষে অসংখ্য অলীক স্বপ্নকে সত্যি করার সাহস একমাত্র এই একটি অনুভূতিই দিতে পারে।

নিজের দেশসহ অন্তত আরও দুটো দেশ ভ্রমণ করা, কারণ নিজের চারপাশের অভ্যস্ত জগতের বাইরে যে একটা ভিন্ন জগত আছে, সেটা জানার একমাত্র উপায় অন্য কোন দেশের সাথে পরিচিত হওয়া। সেই একই মানুষ, অথচ দেশ ভেদে ভাষা ভিন্ন, কালচার ভিন্ন। কোন দেশের গালি কেন কার বুলি কিংবা তাদের দৈনন্দিন জীবন কেন আলাদা- এই অভিজ্ঞতা ইউটিউব দেখে মিলবে না। সরাসরি গিয়ে দেখে আসতে হবে।

জীবনের একটা সময়ে সম্পূর্ণ একা থাকা, কারণ প্রস্থানের পরেই অনুভূত হয় আমার প্রয়োজনীয়তা। চারপাশের মানুষগুলো আসলে আমার কিনা, কিংবা এই যে নির্ভরশীলতা, সেটা ছাড়া জীবন কেমন, আবার সবার কাছ থেকে আলাদা হবার পরেই নিজেকে চেনার সুযোগ হয়। চারপাশের শব্দগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন না হলে নিজেকে আসলে আবিষ্কার করা যায় না। কে আমি, কী চাই, কেন চাই, কাকে চাই কিংবা আমার ভাবনাগুলো আসলে কেমন, সেটা একা না হলে বোঝা সম্ভব না। হৃদয়ের শব্দ তখন শোনা যায় যখন চারপাশে আর কোন পরিচিত শব্দ থাকে না।

নিয়মিত বই পড়া, কারণ বই শুধু কতগুলো কালি আর পৃষ্ঠার যৌথ প্রযোজনা না, বই মানে অন্য কার ভাবনা, মানে অসংখ্য অনুভূতির সংমিশ্রণ, চারপাশে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনগুলোর তথ্য ভাণ্ডার। প্রগতির সাথে নিজেকে আপডেট করার জন্য বই পড়া আবশ্যক।

সপ্তাহে অন্তত দুটো সিনেমা দেখা এবং সময় অসময়ে গান শোনা উচিৎ, কারণ গান হলো হৃদয় সচল রাখার মাধ্যম আর সিনেমা হলো মানসিক খোরাক, মানে মনের খাদ্য। সিনেমা মানুষ এর কল্পনাকে চোখের সামনে এনে দেয়। কখনো হাসায়, কখনো কাঁদায়, কখনো ভাবায়। সিনেমা হলো অনুভূতিগুলো কর্মক্ষম রাখার উপায়। আর বেঁচে থাকার অন্য অনুভূতিগুলো সচল রাখা নিঃশ্বাসের মতোই জরুরী।

আর একটা কাজ আবশ্যক না, তবুও বলে রাখি, ইউরোপের কোন এক শহরে অপরিচিত কোন পাবে অপরিচিত মানুষের সাথে আড্ডা দিতে দিতে এক প্যাগ লাগাভলি কিংবা কনিয়াক অবশ্যই টেস্ট করা। কেন, এর উত্তর দেয়া সম্ভব না, কিছু অনুভূতি লেখা যায় না। সেটা শুধুই অনুভব করা যায়।


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা