বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর উদযাপনকে কেন্দ্র করে দেশের একটা গোষ্ঠী যে হরিলুট করছে, সেটা কি কারো চোখে পড়ছে না? সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের মানুষদের বুদ্ধি-বিবেচনা কি এতোটাই খারাপ পর্যায়ে চলে গেছে?

শামীম আহমেদ জিতুঃ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর উদযাপনকে কেন্দ্র করে দেশের একটা গোষ্ঠী যে হরিলুট করছে, সেটা কি কোনো এক অবিশ্বাস্য কারণে আমি ছাড়া কারো চোখে পড়ছে না? 

টিভিতে একটা লেজার শো এর মতো অনুষ্ঠানের অংশবিশেষ ভিডিওর মাধ্যমে দেখলাম। বঙ্গবন্ধু ফিরে এসেছিলেন এমন একটি বিমানের দরজায় অত্যন্ত নিম্নমানের লেজার লাইটের প্রতিচ্ছবির মাধ্যমে তাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তারপর সেই লেজার লাইট খানিকটা দলা পাকিয়ে একটা লাল কার্পেটের উপর দিয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে আসছে, একদল মানুষ সেই সবুজ আলোর উপর ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে দিচ্ছে আর উল্লাস করছে। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখলাম, আমার বিস্ময় কাটে না। কোন সুস্থ স্বাভাবিক দেশের বিবেকবান প্রশাসনযন্ত্রের পক্ষে এমন একটা জিনিস বাস্তবায়ন কীভাবে সম্ভব হলো?

এছাড়াও এই উদযাপনকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার কোটি টাকার অনুষ্ঠান করা হচ্ছে, আমার ধারণা তার বেশীরভাগের মানও হবে এই পর্যায়ের অথবা আরো নিম্নমানের। 

অথচ বঙ্গবন্ধুর জীবন পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা রাজনীতিবিদের মর্যাদা পাবার যোগ্য। তার জীবনীর চাইতে গুরুত্বপূর্ণ জীবনী আর কোনো রাজনীতিবিদের আছে কিনা আমার জানা নেই। তার ৭ই মার্চের ভাষণের চাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভাষন কোনো রাজনীতিবিদ আগে দিয়েছেন কিনা আমার ঘোরতর সন্দেহ আছে।

এই মানুষটির জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন নয়, পালন করা দরকার ছিল। তার আদর্শকে বাস্তবায়ন করা, দেশের ধনী-দরিদ্রের মাঝে অসমতা কমিয়ে আনা, সমাজতন্ত্রের মূলমন্ত্র কায়েম, ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা, এগুলোতে গুরুত্ব দেয়া উচিৎ ছিলো।

বিনম্র শ্রদ্ধা রইলো তার প্রতি 

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়ারা প্রচুর মিথ্যা কথা ছড়িয়েছে। আমি নিজেও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বেশীরভাগ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পেরেছি ২০১২ সালে তার অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটি পড়ে। আজকে যারা বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন করছেন, তাদের ১০ শতাংশও বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়েননি, তার জীবনদর্শন অধ্যায়ন করেননি, কিন্তু হরিলুট ও সাধারণ মানুষের অসন্তুষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছেন।

বঙ্গবন্ধুকে প্রকৃতপক্ষে ভালোবাসলে তার "অসমাপ্ত আত্মজীবনী" বইটি বাংলাদেশের ৫ কোটি পরিবারের জন্য ৫ কোটি কপি ছাপিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে পাঠানো যেতো। তার এই বইটি পৃথিবীর প্রচলিত সব ভাষায় অনুবাদ করে তাদের সবগুলো লাইব্রেরিতে পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা করা যেত। এই বই ১০ কোটি ছাপিয়ে ১০০০ কোটি টাকা খরচ করলেও সেটা হতো একটা মূল্যবান বিনিয়োগ। একটা প্রজন্ম বেড়ে ওঠার জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা পেতো। এইসব অর্থহীন লেজার শো, কিংবা লজ্জাস্কর ও নিম্নমানের কার্যক্রমের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার হরিলুটের চাইতে তা অনেক বেশী কার্যকর হতো সে কাজটা, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের মানুষদের বুদ্ধি-বিবেচনা কি এতোটাই খারাপ পর্যায়ে চলে গেছে যে আমার মতো মানুষের আজকে সরকার, দলের হঠকারী কাজকর্মের মাধ্যমে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীকে খেলো করে তোলার ব্যাপারে উষ্মা প্রকাশ করতে হচ্ছে?

 

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ বিএনএনআরসি


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা